দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ডিজেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে সেচ কার্যক্রমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক কৃষক সেচ মেশিনে ডিজেল ভরে কাজ শেষে তা আবার বের করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেল চুরির আশঙ্কা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ার কারণে তারা এভাবে জ্বালানি সংরক্ষণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই বাড়তি ঝামেলা ও সময় ব্যয় হচ্ছে।
কয়েলগাতি গ্রামের কৃষক রঞ্জু বাবু জানান, আগে ৬৫ টাকায় ডিজেল পাওয়া গেলেও এখন ১১৫ টাকাতেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি কৃষি অফিসের প্রত্যায়ন নিয়েও বারবার ঘুরতে হচ্ছে। তার ভাষায়, “পাঁচ বিঘা জমির জন্য মাত্র পাঁচ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়, এতে বারবার যেতে হয়, ভোগান্তি হয়।”
ঝাঐল এলাকার আরেক কৃষক রহমান বলেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও সীমিত সরবরাহের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। প্রত্যায়ন নিতে একাধিকবার অফিসে যেতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না থাকায় অনেক সময় খোলা বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে সেচ, পাওয়ার টিলার ও ধান মাড়াইসহ কৃষিকাজের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কামারখন্দ উপজেলায় বোরো আবাদে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলায় মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫২ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে ডিজেলচালিত সেচ ব্যবহৃত হচ্ছে।
কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন বলেন, নীতিমালার আওতায় যাচাই-বাছাই করে কৃষকদের প্রত্যায়ন দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে আমরা কাজ করছি।
জেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ডিজেল সরবরাহ ও বণ্টন বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
জে আই